Gastroschisis, Jejunal Atresia, Malrotation—তিন শিশুর যুদ্ধ ও ভালোবাসার গল্প

ঈদের আনন্দের চেয়ে বেশি আনন্দ আসার কথা ছিল প্রত্যেকটা এঞ্জেল এর পরিবারে- যখন তারা বাবা মায়ের কোল জুড়ে এসেছিল। কিন্তু পরিবারের সবার সেই আনন্দ মিলিয়ে গিয়েছিল জন্মের পরপর-ই। চ্যালেঞ্জ ছিল, ঈদের আগে যেন বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পারি।

১ম এঞ্জেলের সব নাড়িভুড়ি (small and large GUT) ছিল পেটের বাইরে যে রোগের নাম Gastroschisis । জন্মের পরপরই হাস্পাতালে নিয়ে আসাতে দ্রুততার সাথে অপারেশন করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর ১১ দিন চিকিৎসা শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার মুহুর্ত ।

২য় এঞ্জেলের রোগটাও ছিল পেটের নাড়িতে (jejunum)। স্বাভাবিক নাড়ি প্রথম এক পঞ্চমাংশ। এরপর জন্মগতভাবে বাকি চার পঞ্চমাংশ সরু ছিল, যে রোগের নাম Jejunal Atresia Type – 1. বাচ্চার হলুদ বমি বন্ধ হচ্ছিল না, সাথে পায়খানা বন্ধ ছিল জন্ম থেকে। হাসপাতালে দেরীতে আসায় শরীরে লবন, পানি ও পুষ্টি ঘাটতি ছিল। এরপর অনেক রিস্ক নিয়ে অপারেশন করা, মোটা নাড়ির সাথে সরু নাড়ি জোড়া লাগানো ও সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা। অবশেষে অপারেশনের ৭ম দিনে আলহামদুলিল্লাহ মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া।

৩য় এঞ্জেল এর রোগটাও ছিল ব্যাতিক্রম। তার পেটের নাড়ি (Midgut) ছিল উল্টাভাবে সাজানো, যে রোগের নাম Malrotation of Midgut, এর ফলে বাচ্চার হলুদ বমি বন্ধ হচ্ছিলনা। বাচ্চাটা যখন ভর্তি হয়, তখন মৃতপ্রায়, শরীরে তীব্র লবন ও পানির ঘাটতি। অপারেনের পর ৬ষ্ট দিনে বাচ্চাকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া।
হয়ত বাবা মা আর পরিবারের সবার
যত্নে এঞ্জেলগুলো একদিন বড় হবে, কেউ ডাক্তার – ইঞ্জিনিয়ার -পাইলট -শিক্ষক হবে। ওরা হয়ত কখন ও জানবেই না যে – ওদের সুস্থ করতে কয়েকজন মানুষ রাতদিন এক করে চেষ্টা করে গিয়েছিল। কিছু কথা অজানা থাকাও মন্দ না।
সবসময় বটবৃক্ষের মত ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন বরাবরের মত প্রফেসর ডা. নওশাদ স্যার,ডা. আহসান শহীদ স্যার, ডা. স্বান্তনা ম্যাডাম, ডা. জামিল ভাইয়া।
বি.দ্র.বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে পোষ্ট দেয়া।

শেয়ার করুন:

চেম্বার

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার

রুম নং- ৯২২, ৯ম তলা, ভবন-১
হোল্ডিং নং-৬১৭, লক্ষীপুর, রাজশাহী
প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত্রী ৮টা।

শিশু সার্জারী সেন্টার

রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল
ঝাউতলা মোড়, লক্ষীপুর, রাজশাহী